Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

জেলার ঐতিহ্য

পঞ্চগড় জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য

            হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শেষ প্রান্তে  ভৌগোলিক সৌন্দর্যের  সুন্দর জনপদ পঞ্চগড় জেলা । ১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়, বোদা, দেবীগঞ্জ ও আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে পঞ্চগড় জেলা গঠন করা হয় । রাজনগড়, মিরগড়, ভিতরগড়, দেবেনগড় ও হোসেনগড় নামের   পাঁচটি গড়ের সমন্বয়ে গঠিত পঞ্চগড় জেলার তিনদিকেই ১৮৩ মাইল বেষ্টিত বাংলাদেশ-ভারতীয় সীমান্ত অঞ্চল। এ জেলার উত্তরে  ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলা, উত্তরপূর্ব ও পূর্বে জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা  এবং পশ্চিমে ভারতের পূর্ণিয়া ও উত্তর দিনাজপুর জেলা অবস্থিত। করতোয়া, ডাহুক, মহানন্দা, তালমা, পাঙ্গা এবং চাওয়াই নদী ছাড়াও এ জেলায় অনেক পাহাড়ী নদী রয়েছে । হিমালয় অঞ্চলের শৈত্য প্রবাহের কারণে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা খুব বেশী । হিন্দু ও মুসলিম ছাড়াও এ জনপদে রয়েছে রাজবংশী, কোচ, পলিয়া, সাঁওতাল, ওঁরাও এবং সুনরীদের জনবসতি জেলার মোট আয়তন ১৪০৪.৬২ বর্গ কি:মি: এবং ২০১১ সালের জনসংখ্যা এবং গৃহায়ন জরীপ অনুয়ায়ী  মোট জনসংখ্যা ৯,৮৭,৬৪৪ জন ।

০১। পঞ্চগড়ের ইতিহাস ঐতিহ্য:

            যে কোন সভ্যতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক বাহক হলো ঐ সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ ।  পুরাকীর্তি মানুষ ও মানবতার গতি প্রকৃতি ও ধ্যান-ধারণাকে প্রকাশ করেছে । কালের প্রেক্ষাপটে মানুষের সাংস্কৃতিক চেতনাকে প্রকাশ করে  এক একটি প্রত্ন নিদর্শন। সেজন্য একটি বিশেষ অঞ্চলের ও বিশেষ জনগোষ্ঠীর ধারাবাহিক প্রাচীন ইতিহাস পুর্নগঠনে সে অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্বের  ভূমিকা অপরিসীম । পঞ্চগড় জনপদে দীর্ঘকাল ব্যাপ্ত পুন্ড্র, গুপ্ত, পাল, সেন ও মুসলিম শাসকগণের সংস্পর্শে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য প্রত্ন নিদর্শন । এগুলোর মধ্যে ‘‘ ভিতরগড়’’ একটি উলেস্নখযোগ্য ঐতিহাসিক প্রত্ন নির্দশন। বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন অপেক্ষাকৃত উঁচু ও প্লাবন বহির্ভূত উত্তরবঙ্গে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে প্রাচীন ও মধ্যযুগে মাটির তৈরী গড় ও দুর্গই ছিল বেশী উপযোগী । পঞ্চগড় সদর উপজেলাধীন অমরখানা ইউনিয়নে অবস্থিত ভিতরগড় দুর্গ নগরী  বাংলাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ । প্রায় বার বর্গ মাইল স্থান জুড়ে ৪টি আবেষ্টনীসহ এ বিশাল গড় ও নগরীর অবস্থান । দুর্গের প্রাথমিক কাঠামোটি পৃথু রাজা কর্তৃক আনুমানিক ৬ষ্ঠ শতকে নির্মিত হয় । অতঃপর পাল বংশীয় রাজাদের  দ্বারা এ অঞ্চল অধিকৃত ও শাসিত হওয়ার কালে গড়ের সম্প্রসারণ ঘটে ।

            পঞ্চগড় সদর উপজেলাধীন অমরখানা ইউনিয়নে রয়েছে একটি সুদৃশ্য বিশালায়তন জলাশয় যা বর্তমানে ‘মহারাজা দিঘী’ নামে পরিচিত । পাড়সহ এর আয়তন  প্রায় ৮০০x৪০০ গজ।  পাড়ের উচ্চতা প্রায় ২০ ফুট, পানির গভীরতা প্রায় ৪০ ফুট । দিঘীতে রয়েছে মোট ১০টি বাঁধানো ঘাট । ধারণা করা হয় পৃথু রাজা এ দিঘীটি খনন করেন । কথিত আছে পৃথু রাজা পরিবার-পরিজন ও ধনরত্নসহ ‘কীচক’ নামক এক নিম্ন শ্রেণীর আক্রমনের শিকার হয়ে তাদের সংস্পর্শে ধর্মনাশের ভয়ে এ দিঘীতে আত্নহনন করেন। প্রতি বছর বাংলা নববর্ষে এ দিঘীর পাড়ে মেলা বসে ।

            মহারাজার দিঘীর এ অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের ধারা বহন করে চলেছে সুদৃশ্য মহানন্দা নদী ।  মহানন্দা নদীর তীরে  ছোট একটি পাহাড়ের উপরে  অবস্থিত পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক ‘ডাক বাংলো’ । এর নির্মাণ কৌশল অনেকটা ভিক্টোরিয়ান ধাচের । জানা যায়  কুচবিহারের রাজা এটি নির্মাণ করেছিলেন। এর পাশাপাশি তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত একটি পিকনিক কর্ণার রয়েছে । উক্ত স্থান হতে হেমন্ত ও শীতকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। শীতকালে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য অনেক দেশী বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটে। এছাড়াও বহুলোকের আনাগোনা দেখা যায় পঞ্চগড় রকস্ মিউজিয়ামে । পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ চত্ত্বরে তৎকালীন অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল হক কর্তৃক ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের একমাত্র প্রস্তর যাদুঘর ‘রকস মিউজিয়ামটি’ পঞ্চগড়ের পরিচিতিকে পৌঁছে দিয়েছে দেশ থেকে দেশান্তরে । উক্ত মিউজিয়ামে প্রত্নতাত্ত্বিক ও লোকজ সংগ্রহ রয়েছে প্রায় ১০০০ এরও বেশী ।

            চমৎকার স্থাপত্য নিদর্শন বিশিষ্ট মির্জাপুর শাহী মসজিদ পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত । ১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ঢাকা হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে অবস্থিত মসজিদের সাথে মির্জাপুর শাহী মসজিদের নির্মাণ শৈলীর সাদৃশ্য রয়েছে । ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী ধারণা করা হয় মোঘল সম্রাট শাহ আলমের রাজত্বকালে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় । এ মসজিদের পাশে গড়ে ওঠে বার আউলিয়া মাজার । মাজারটি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত । জানা যায় মধ্যপ্রাচ্য হতে বার জন আউলিয়া ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য উক্ত স্থানে এসে বসবাস শুরু করেন । তারা মৃত্যু বরণ করলে উক্তস্থানে তাদের সমাহিত করায় এ স্থানের নাম হয় বার আউলিয়া।

            অনেক মসজিদ-মাজারের পাশাপাশি এ জেলায় গড়ে উঠে বদেশ্বরী মন্দির । এ মন্দিরটি বোদা থানার অন্তর্গত বদেশ্বরী গ্রামে করতোয়া নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত । হিন্দু ধর্মের  স্কনদপুরানে  বর্ণিত আছে, শীব তার সহধর্মিনী পার্বতীর মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে  তার সহধর্মিনীর শব দেহটি কাঁধে নিয়ে পৃথিবীর সর্বসত্মরে উন্মাদের ন্যয় ঘোরাতে থাকলে স্বর্গের রাজা বিষ্ণুদেবের নিক্ষিপ্ত সুদর্শন চক্রের আঘাতে শবদেহটি বাহান্নটি খন্ডে বিভক্ত হয় । কথিত আছে যে,শবের বাহান্নটি খন্ডের মধ্যে একটি চট্রগ্রামের সীতাকুন্ডে এবং অপরটি পঞ্চগড়ের বদেশ্বরীতে পড়ে । বদেশ্বরী মন্দিরের পাশাপাশি গোলকধাম মন্দিরের একটি চমৎকার নিদর্শন পরিলক্ষিত হয় । এটা দেবীগঞ্জ উপজেলা শালডাঙ্গা ইউনিয়নের শালডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত । মন্দিরটি ১৮৪৬ সালে নির্মিত হয় । এটি অষ্টাদশ শতকের একটি স্থাপত্য নিদর্শন । এ স্থাপত্য কৌশল গ্রীক পদ্ধতির অনুরূপ ।

 

 

০২। মুক্তিযুদ্ধে পঞ্চগড়ঃ

            তিন দিকে সীমান্ত পরিবেষ্টিত ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের উত্তরতম জেলা পঞ্চগড় অঞ্চলে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময়জুড়ে সংঘটিত হয় ব্যাপক গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধ । ৬ নং সেক্টরের অন্তর্গত ৬-এ সাব-সেক্টর হিসেবে পঞ্চগড় অঞ্চলের মুক্তাঞ্চলের পরিধি ও বিস্তৃতি ছিল বাংলাদেশের অন্যান্য মুক্তাঞ্চলের চেয়ে বেশী । পাক বাহিনীর কাছ থেকে এ জেলা সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয় ২৯ নভেম্বর, ১৯৭১ । বর্তমানে পঞ্চগড়ে মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ২২০০ জন, তন্মোধ্যে ১৬৪৪ জন নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান ।

০৩। পঞ্চগড়ের চা চাষ কৃষি :

         পঞ্চগড় জেলায় ২,৭৯৪.৫৮ একর জমিতে উৎকৃষ্ট মানের চা উৎপন্ন হয় । ২০০০ সালে এ জেলায় চায়ের চাষ শুরু হয় । বর্তমানে ০৯ টি এস্টেটসহ ৩২৭টি প্লটে চা চাষ করা হচ্ছে। এ জেলায় মোট পাঁচটি চা ফ্যাক্টরী চালু রয়েছে । এ সকল ফ্যাক্টরীতে বৎসরে ১১,১২,৮৩৪ কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে । পঞ্চগড়ের অর্গানিক চা ইউরোপ-আমেরিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে ।

         কৃষি হচ্ছে পঞ্চগড় জেলার অধিবাসীদের জীবিকার প্রধান উৎস । এ জেলার উর্বর জমিতে  প্রচুর পরিমাণ ধান ও গম উৎপাদিত হয় । ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে এ জেলায় ৪,৩৪,১৯০ মেঃ টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয় । জেলার মোট খাদ্যশস্যের চাহিদা হচ্ছে ১,৬৪,৩২৮ মেঃ টন । জাতীয় খাদ্য ভান্ডারে এ জেলা থেকে  উলেস্নখযোগ্য পরিমাণ খাদ্য শস্য প্রতিবছর যুক্ত হচ্ছে। বিগত অর্থ বছরে জাতীয় খাদ্য ভান্ডারে এ জেলা থেকে ২,১৯,৫৮৩ মেঃ টন খাদ্য শস্য যুক্ত হয়। ধান ও গম ছাড়াও পঞ্চগড় জেলায় প্রচুর ভুট্টা চাষ হয়। গত অর্থ বছরে এ  জেলায় ৯৪,৯০০ মেঃ টন ভুট্টা উৎপন্ন হয় । পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে কমলালেবুর বাগান রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে এ জেলায় কমলালেবুর চাষ হচ্ছে । দেবীগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ১ একর জমিতে বিদেশী ফল প্যাশন ফলের(ট্যাংক) চাষ হচ্ছে । এ ছাড়া  এ জেলার প্রায় ১০/১৫ একর জমিতে মাল্টা চাষ হচেছ।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট (BARI)  কর্তৃক  দেবীগঞ্জ উপজেলায় শাখায় আলু, গম, মসলা, আম এবং কমলালেবুসহ অন্যান্য সাইট্রাস জাতীয় ফলের গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । এখানে টিস্যু কালচারসহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক  পদ্ধতি ব্যবহার করে ফসল/ফলের চাষ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া  হয়েছে ।

০৪। পঞ্চগড়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী

          পঞ্চগড়ে  সামাজিক নিরাত্তা নিশ্চিত করার জন্য গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী। এর আওতাধীন উলেস্নখযোগ্য কার্যক্রম সমূহের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা প্রদান । প্রতি ৩ মাস অন্তর ১৬৪৪ জন মুক্তিযোদ্ধা ২০০০/- করে মুক্তি যোদ্ধা ভাতা পান ।১৮৭৬৭ জন ব্যক্তি প্রতিমাসে ৩০০ টাকা হারে বয়স্ক ভাতা  গ্রহণ করেন। এছাড়াও ১০,৫৬৫ জন মহিলা প্রতি মাসে ৩০০/- টাকা করে  বিধবা ভাতা গ্রহণ করছেন । ১,৯৭৫ জন প্রতিবন্ধী প্রতিমাসে ৩০০/- টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করছেন ।

০৫। বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর :

         বাংলাদেশের সর্বউত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া । এই  উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে রয়েছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর । মহানন্দা নদীর তীর ও ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন প্রায় ১০ একর জমিতে ১৯৯৭ সালে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বন্দরের মাধ্যমে ভারত ও নেপালের সাথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে । এটি বাংলাদেশের একমাত্র স্থলবন্দর যার মাধ্যমে ০৩টি দেশের সাথে (ভারত, নেপাল, ভুটান) সুদৃঢ় যোগাযোগ গড়ে উঠার সম্ভাবনা  রয়েছে । এ বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নেপালে ব্যাটারী, সীসা, পাট, ফলের রস, ওয়েস্ট কটন, কাপড়, কাঠ ও প্লাস্টিকের আসবাবপত্র রপ্তানি করা হয় । একই সাথে ভারত থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,০০০ মেঃ টন পাথর  এবং নেপাল থেকে  গড়ে প্রতিদিন ১০০ মেঃ টন ডাল আমদানি করা হয় ।

০৬।  পাথর উত্তোলন

        পাথর উত্তোলন  পঞ্চগড় জেলাবাসীর জীবিকার একটি উল্লেখযোগ্য উৎস । পঞ্চগড় জেলার ০৮ টি নদীর মোট ১৯ টি পাথর মহাল থেকে পাথর উত্তোলন করা হয় । এর মধ্যে পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় ০৮ টি করে, বোদা উপজেলায় ০২টি এবং দেবীগঞ্জ উপজেলায় ০১টি পাথর মহাল অবস্থিত । এসব পাথর মহালে প্রায় ২০,০০০ শ্রমিক কর্মরত আছেন ।

০৭।  মিড ডে মিল :

           পঞ্চগড় জেলার ৫টি উপজেলার ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাথমিকভাবে মিড-ডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে । আরো ১৫টি বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম শীঘ্রই শুর করা হবে । প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, শিখন কার্যক্রম সফল করা, শিশুদের পুষ্টি চাহিদা  মেটানো এবং তাদেরকে বিদ্যালয়মুখী করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ স্থানীয়  উদ্যোগে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারন জনগণের অংশগ্রহণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে ।

       এ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রতিমাসে  ০৩ কেজি চাল ও ২৫০ গ্রাম ডাল সরবরাহ করে । এ ছাড়া বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকার স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তিগণ বিদ্যালয়ে নিয়মিত অনুদান প্রদান করেন, সেই সাথে অতি দরিদ্র শিশুদের খাবারের ব্যয় ভার জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হয় । অনুদান  হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ প্রধান শিক্ষক এবং স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত একটি ভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয় । খাবার প্রস্তুতের যাবতীয় কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে গঠিত কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় । পঞ্চগড় জেলায় চলমান মিড-ডে মিল কর্মসূচি এ জেলার প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে ।

০৮।পঞ্চগড় জেলায় ডিজিটাল কার্যক্রম

            পঞ্চগড় জেলার ৪৩টি ইউনিয়ন তথ্য  সেবা কেন্দ্র  থেকে সাধারণ জনগণকে এখন কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সম্পর্কিত সকল সেবা প্রদান করা হচ্ছে । ইউনিয়ন তথ্য  সেবা কেন্দ্রসমূহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, মোবাইল ব্যাংকিং, জীবনবীমাসহ  সকল সরকারি-বেসরকারি ও বাণিজ্যিক তথ্য-সেবা প্রদানের এক অনন্য কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে । এছাড়া অন-লাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, চাকুরীর দরখাস্ত, স্বল্প মূল্যে ছবি তোলা, অর্থ আদান-প্রদান, ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজ, ভিডিও প্রদর্শন,  স্ক্যানিং, পরীক্ষার ফলাফল, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, ই-পুর্জি, ই-টেন্ডারিং ও  ই-মেইলসহ  যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । জেলার ৫টি উপজেলায় ৯,৫৩,৫২৫টি জন্ম নিবন্ধন অন-লাইনে সম্পন্ন হয়েছে । ফলে জন্ম নিবন্ধনে মিথ্যা/অসত্য তথ্য প্রদান বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে । ইউনিয়ন তথ্য  সেবা কেন্দ্রের  মাধ্যমে  নকলের আবেদন গ্রহণ ও বিতরণের ব্যবস্থা চালু হয়েছে । স্থানীয় জনগণ  এখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে না এসেও ইউআইএসসির মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে অন-লাইনে নকলের আবেদন ও নাগরিক আবেদন সরাসরি জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করতে পারে এবং ইউআইএসসি থেকে খতিয়ানের নকল উত্তোলণ করতে পারে । ইউআইএসসি থেকে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে প্রতি মাসে গড়ে ৭৫০জন ছাত্র-ছাত্রী/সাধারণ জনগণকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে । ফলে ৪৩টি ইউনিয়নে ৮৬ জন উদ্যোক্তার কর্মসংস্থান হয়েছে এবং আরো ৮৬ জন উদ্যোক্তাকে ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হয়েছে । প্রতি মাসে এ সকল উদ্যোক্তারা গড়ে প্রায় ২০ হাজার সাধারণ মানুষকে সেবা প্রদান করে ১০/১২ লক্ষ টাকা আয় করছে । প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় ৯টি ইউনিয়নে সোলার প্যানেল ব্যবহার করেও এসকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ।

            এছাড়া  জেলা ই-সেবা কেন্দ্রের  মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কতিপয় আর্থিক বিষয়াদি ছাড়া সকল কার্যক্রম এখন অন-লাইনে নিষ্পত্তি করা হয় । পূর্বে যে নথি নিষ্পত্তি করতে ৫/৭ দিন সময় লাগত এখন তা মাত্র ১ দিনেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে । জেলা ই-সেবা কেন্দ্র থেকে এখন সকল নকলের কম্পিউটারাইজড্ খতিয়ান সরবরাহ করা হয় । পূর্বে যে সব খতিয়ান সরবরাহ করতে ২০/২৫ দিন সময় লাগত এখন আবেদন করার ৩ দিনের মধ্যেই আবেদনকারীকে ডিজিটাল খতিয়ান  সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে । জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রায় ৪৫টি কম্পিউটার ব্যবহার করে কর্মকর্তা/কর্মচারীরা এ সব সেবা প্রদান করছে । ৬৫ জন কর্মকর্তা/কর্মচারীকে অন-লাইন ব্যবহারে সক্ষম করে গড়ে তোলার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত কম্পিউটার ল্যাবে বিভিন্ন মেয়াদে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে । জেলার ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে ।  এছাড়া, পঞ্চগড় জেলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সম্বলিত জেলা  ওয়েব পোর্টাল  তৈরি করা  হয়েছে, ফলে বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে মানুষ  পঞ্চগড় জেলার যাবতীয় তথ্য পেতে পারে । 

০৯। স্কাউটিং কার্যক্রমে পঞ্চগড়

            পঞ্চগড় রোভার স্কাউটে বেসিক কোর্স সম্পন্নকারী  লিডারের সংখ্যা  কাব শাখায়-৬৫৫ জন, স্কাউটে-৩৯৮ জন এবং উড ব্যাজার  লিডারের সংখ্যা  কাব শাখায় ২৫ জন ও স্কাউটে শাখায়-২২ জন । এছাড়া এনটিসি (ন্যাশনালট্রেনার কোর্স)  কাব শাখায় ১ জন এবং স্কাউট শাখায়-১ জনসহ এএলটিতে (এসিস্ট্যান্ট লিডার ট্রেনার)  ৩ জন লিডার আছে ।

            বিগত ২০১২ সালে পঞ্চগড়ে রোভার স্কাউটের   উল্লেখযোগ্য  কার্যক্রম সমূহের মধ্যেরয়েছেপঞ্চগড় সদর ও দেবীগঞ্জে ২টি ইউনিট লিডার ওরিয়েন্টেশন কোর্স , দেবীগঞ্জে ২টি গ্রুপ সভাপতি ওরিয়েন্টেশন কোর্স , জগদলে জেলা স্কাউট সমাবেশ ও জেলা কাব ক্যাম্পুরী, আটোয়ারীতে কাব ইউনিট লিডার বেসিক কোর্স, তেঁতুলিয়ায় জাতীয় এয়ার ইন্টারনেট জাম্বুরী, পঞ্চগড় সদরে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক ওরিয়েন্টশন কার্যক্রম ও  জেলা সাংগঠনিক ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয় ।  এছাড়া  দিনাজপুরে  আঞ্চলিক কাব স্কাউট প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায়  ৮টি বিয়য়ের মধ্যে ৪টি বিষয়ে প্রথম স্থান ও ৩টি বিষয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে । উলেস্নখ্য, ৫টি উপজেলায় বিদ্যুৎ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় । পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের ঐকামিত্মক প্রচেষ্টায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ  উপজেলায় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ডিসেম্বর ২০১২তে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৫.৩৭ একর জমি বাংলাদেশ স্কাউটসকে দীর্ঘ মেয়াদী বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে । ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রোভার ও স্কাউটদের জন্য অফিস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ।